![]()
সময়ের সাথে সব কিছুই আধুনিক হয়ে যাচ্ছে। কবুতরকে প্রতিস্থাপন করেছিল যে চিঠি আজ তা ইমেইল এর কাছে হেরে প্রতিস্থাপিত হয়েছে। হাতপাখা প্রতিস্থাপিত হয়েছিল ফ্যানের দ্বারা। আজ সেই ফ্যানই আজ প্রতিস্থাপিত হতে চলেছে এসির দ্বারা। মাটির ঘর প্রতিস্থাপিত হয়েছে প্রথমে টিনের ঘর দ্বারা এবং এরপর ইট ও সিমেন্ট এর দ্বারা। এই আধুনিকায়নের ছোঁয়া রূপকথা, কল্পকাহিনী গল্প আর কবিতাকেও রেহাই দেয়নি।
আগে আমরা শুনতাম সিনডেরেলার গল্প। সেই সিনডেরেলা পার্টিতে গিয়ে জুতা রেখে চলে আসে। সেই জুতার সাহায্য নিয়ে পরে রাজকুমার তাকে খুঁজে বের করে। এখন আধুনিকায়নের পর গল্পটা একটু পরিবর্তিত হয়ে যাবে। দেখা যাবে, সিনডারেলা কোনো ম্যাসেঞ্জারে সাইন ইন করে রাজকুমার এর সাথে আলাপ করবে। কিন্তু সে তার কোনো বিবরন দেয়ার আগেই চলে যেতে হবে। শুধু যাওয়ার আগে সে তার পাসওয়ার্ডটি বলে যাবে। এরপর রাজকুমার ঐ আইডি নিয়ে পথে পথে ঘুরে বেড়াবে আর পাসওয়ার্ড জানতে চাবে। শেষে দেখা যাবে, এক মেয়ে আন্দাজে ঢিল মেরে পাসওয়ার্ড ঠিক বলে ফেলেছে। এরপর রাজকুমার ঐ মেয়েকে বিয়ে করবে। আর সিনডারেলা ভাববে তার সাথে ধোঁকা হইসে। যা আজকের ইন্টারনেট-এ হর হামেশাই হয়ে থাকে।
এরপর হল এলিস ইন ওয়ান্ডার্ল্যান্ড। এলিস হঠাৎ করেই খুব একটা সুন্দর দেশে চলে যায়। সেখানকার অদ্ভুদ পরিবেশ তাকে খুবই আকৃষ্ট করে। তো বর্তমানের প্রেক্ষাপটে গল্পের নাম হবে “সখিনা এখন বাংলাদেশ-এ”। হঠাৎ করেই সখিনা তার স্বপ্নে এক অদ্ভুদ দেশকে দেখতে পায়। সেই দেশের দুই রানী নিজেদের মধ্যে শুধুই ঝগড়া করতো। তারপর এক রানী নিজের স্বার্থের জন্য দেশের রাজত্ব এক ভয়ালদর্শী লোকের হাতে তুলে দেয়। সেই লোক প্রথম দিকে সুন্দর মত দেশ চালালেও পরবর্তীতে তার আসল রূপ বের হয়ে আসতে থাকে। তো একদিন বলা নেই কওয়া নেই সারাদেশ-এ কার্ফ্যু দিয়ে দেয়। সখিনা তা জানতো না। তাই সে সময় মত বাসায় ফেরত যেতে পারে নি। সেনাবাহিনী তাকে ধরে ফেলে। এরপর তাকে যখন মারতে যাবে তখনই সখিনার ঘুম ভেঙে যায়। এইটা হল আধুনিক “এলিস ইন ওয়ান্ডার্ল্যান্ড”
এরপর আসি রাক্ষসদের গল্পতে। আগে বাচ্চাদের ভয় দেখানোর জন্য বলা হত রাক্ষসদের গল্প। রাক্ষসরা নাকি মানুষের গন্ধ পেলেই বলত,” হাউ মাউ খাউ মানুষের গন্ধ পাই”। এখন আর বাচ্চারা রাক্ষসের গল্প শুনে ভয় পায় না। আধুনিকায়নের যুগে তাদের কে ভয় দেখাতে হল অন্য জিনিষের ভয় দেখাতে হবে। তাই আজকাল মা-রা ভয় দেখানোর জন্য সেনাবাহিনীর কথা বলে। সেনাবাহিনীদের (অ)সভ্য কার্যকলাপ শুনে বাচ্চারা ভয়ে ঘুমিয়ে পড়ে।
পদ্যর ক্ষেত্রেও কিছু পরিবর্তন এসেছে। আগে আমরা পড়তাম-
“বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর
নদে এলো বান”
আর এখন বাচ্চাদেরকে শিখানো হবে-
“গুলির আওয়াজ ঠাস ঠাস
মানুষ মরে চার পাঁচ।”
এভাবেই সাহিত্যর সর্বক্ষেত্রেই আধুনিকায়নের ছোয়া লেগেছে বা লাগতে যাচ্ছে। আমাদের সবাইকে প্রস্তুত থাকা উচিত।
good
By: chaya on অগাষ্ট 24, 2007
at 5:47 pm
tomar shob lekhai valo.
tobe ata onek shundor hoache.
hope future-a aro valo kore likhba.
mera ashirbad hamesha tumhari sath hai!!!!!!!!
By: chaya on অগাষ্ট 26, 2007
at 12:02 pm